পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.খলিলুর রহমান বলেছেন, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন। দলগুলো এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং এমন না যে চুক্তিটি অন্তর্বর্তী সরকার অন্ধকারে করেছে। চুক্তিতে একটা প্রবেশের ধারা এবং বের হবার ধারা রয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি এস পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পারিক বাণিজ্য চুক্তি থেকে প্রবেশের ও বের হওয়ার ধারাগুলো হচ্ছে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালে এ চুক্তি কার্যকর হবে না। এখনও আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাইনি। সরকার ইচ্ছা করলে পর্যালোচনা করতে পারে। আর বের হবার ধারা হচ্ছে– ৬০ দিনের নোটিশে বের হওয়া যাবে।
চুক্তিতে দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, চুক্তির দরকষাকষি তিন দিন আগে শেষ হয়েছে, বিষয়টি তা নয়। ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারিতে প্রথম বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করা হয় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি এবং তারপর থেকে মূল আলোচনা শুরু হয়। জুলাইতে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে মোটামুটি একটা চুক্তি হয়েছিল। শুধুমাত্র দুটি বিষয় বাকি ছিল। চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার করে রেখেছিল ৩১শে জুলাই, ১লা আগস্ট বাংলাদেশ শুল্ক ২০ শতাংশ পেয়েছে। ফলে চট করে নির্বাচনের তিন দিন আগে সই করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।
বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে আর্ট চুক্তি সাংঘর্ষিক কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি এর সঙ্গে অবশ্যই সাংঘর্ষিক নয়। কারণ সবার আগে বাংলাদেশ এ নীতি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও পালন করা হয়েছে। এ চুক্তিটি যদি না হতো– ৩৭ শতাংশ শুল্ক দিয়ে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতা করতে বাংলাদেশ পারতো কি না। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ২২ বিলিয়ন ডলারের ক্রয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারত ৫ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক ১৯ আর ভারতের ১৮ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি হতাহতের বিষয়ে পল কাপুরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশিদের নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। বাংলাদেশের মতন দেশের পক্ষে এ যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বহন করা দুঃসাধ্য। বাংলাদেশ বলেছে, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার ও কূটনীতির মাধ্যমে এ সংঘাত সমাধানের জন্য।
আই/এ