ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্টেলথ বোমারু বিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন বি–২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে পাঠানো হতে পারে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
এই সিদ্ধান্ত আসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামরিক স্থাপনাগুলো সীমিতভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘাঁটি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে সহায়তা করতে পারে।
মার্কিন বি–২ স্পিরিট বিমানগুলো এর আগে মিসৌরি ঘাঁটি থেকে দীর্ঘপাল্লার মিশনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে অপারেশন এপিক ফিউরি অভিযানের সময় ৩৭ ঘণ্টার যাওয়া–আসার মিশনে ইরানের শক্তভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে থাকা ঘাঁটি থেকে বিমান পরিচালনা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে বড় সুবিধা পাবে। বিশেষ করে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করলে উড্ডয়নের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, ফলে ইরানের গভীরে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও অন্যান্য শক্তভাবে সুরক্ষিত স্থাপনায় আরও ঘন ঘন হামলা চালানো সম্ভব হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বড় ধরনের হামলার নতুন ঢেউ খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বি–২ স্পিরিট যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত স্টেলথ ভারী বোমারু বিমানগুলোর একটি, যা আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে নির্ভুলভাবে বাঙ্কার ধ্বংসকারী অস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম। এই বিমান মোতায়েনকে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন প্রতিরোধে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসি//