যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর সহায়তা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলার অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহ এই ঘটনার সময় ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ পাওয়া গেছে।
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চলমান ফৌজদারি তদন্তে ওপেনএআই-এর ভূমিকা নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে অতিরিক্ত অভিযোগও দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টামপা বে ২৮ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে রোববার (২৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, জামিল ও বৃষ্টির হত্যাকাণ্ড ঘিরে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
উথমিয়ার জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনে এই চ্যাটবটের সাহায্য নিয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে উথমিয়ার দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে হওয়া একটি হামলার পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটি সাহায্য করে থাকতে পারে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার নতুন এই জোড়া খুনের মামলাটি যুক্ত করা হলো।
যেভাবে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন অভিযুক্ত
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত হিশাম লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার আগে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রকাশিত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই হিশাম চ্যাটজিপিটি-র কাছে লাশ গুম করার বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল অভিযুক্ত হিশাম চ্যাটজিপিটি-কে জিজ্ঞাসা করেন— যদি কাউকে ‘একটি কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়, তবে কী ঘটবে।’ চ্যাটপিটি জবাবে জানিয়েছে, এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে। এরপর হিশাম প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে?’
নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন ১৫ এপ্রিল হিশাম চ্যাটজিপিটি-র কাছে জানতে চান, ‘একটি গাড়ির ভিআইএন নম্বর কি পরিবর্তন করা যায়’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা সম্ভব?’ এরপর ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতের ঠিক পরেই তিনি জানতে চান, ‘হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়ি পরীক্ষা করা হয়?’ ওই রাতেই লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে হিশামের ফোনের লোকেশন পাওয়া যায়।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের হত্যার অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার একটি জলাশয়ে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। পিনেলাস কাউন্টিতে পাওয়া দেহাবশেষগুলো এখনও বৃষ্টির কি না তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, দেহাবশেষগুলো ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ এলাকায় পাওয়া গেছে। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের সেন্ট পিটার্সবার্গ এরিয়ায় অবস্থিত।
এসি//