ইরানকে লক্ষ্য করে আবারও সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরান অতিরিক্ত সময় নিয়েছে; এখন তার মূল্য দিতে হবে।
মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগের দিনও একই ধরনের পাল্টা হামলার দাবি করেছিল ইরান।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা দুটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌযানের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সেন্টকমের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ এখনো প্রণালিটি ব্যবহার করে চলাচল করছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আগের দিন ইরানকে কঠোরভাবে হামলা করা হয়েছে এবং একই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, ইরানের নেতারা শান্তি আলোচনায় অযথা সময়ক্ষেপণ করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একই সুরে বলেন, ইরানকে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, চাপ ও হুমকির মুখে তেহরান পিছিয়ে যাবে না। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটনের পরস্পরবিরোধী বার্তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।