ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মা। তবে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই চার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ শিশুর জন্ম হয়। নবজাতকদের মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুজন মেয়ে। শিশুগুলোর বাবা-মা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের মাহামুদুল হাসান (ডলার) ও চাঁদনী বেগম (২২)।
চিকিৎসকরা জানান, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে জন্ম নেওয়া এবং অত্যন্ত কম ওজনের হওয়ায় তারা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ছিল। বর্তমানে একটি ছেলেশিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবার জানায়, দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর পরীক্ষায় জানা যায়, চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেও হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে চাঁদনীকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি চার নবজাতকের জন্ম হয়। শিশুগুলো সাত মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম নেয় এবং প্রত্যেকের ওজন ছিল মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে।
হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, জন্মের সময় পাঁচটি শিশুই জীবিত ছিল। তবে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের নবজাতকদের ‘এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট’ শ্রেণির হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের শিশুদের সাধারণত উন্নত নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাসপাতালে পর্যাপ্ত এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিয়া বিশ্বাস জানান, চার নবজাতক মারা গেছে। বর্তমানে জীবিত থাকা একমাত্র ছেলেশিশুকে অক্সিজেন সহায়তায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এমএ//