নাটোরে বরিশালের বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে।এতে ১৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন লোমহর্ষক বর্ণনা। তাদের দাবি চালকের পরিবর্তে স্টিয়ারিং ছিল সুপারভাইজারের হাতে। ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে ছুটছিল বাসটি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক তামিম জানান, বাসে শতাধিক যাত্রী ছিল। জায়গা না পেয়ে বাসের গেটে বসেছিলেন। দুর্ঘটনার পর বালির মধ্যে পড়েছিলেন। তার ওপর আরও তিনজন ছিল। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। কী যে ভয়ংকর অবস্থা ছিল, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো না। লোহার সাথে পা আটকে ছিল। ওঠার মতো অবস্থা ছিল না।
তার দাবি, শুধু মাদারীপুর থেকেই উঠেছিলেন অন্তত ৫০ জন। সব সিটে যাত্রী বসা ছিল। গেট থেকে পেছন পর্যন্ত ঠাসাঠাসি করে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হয়েছিল।
আহত যাত্রীদের অনেকের ভাষ্য, বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। তাদের অভিযোগ, চালকের পরিবর্তে বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।
এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাম (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), আব্দুস সামাদ ফকির, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮)।
আই/এ