আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে ২ সেনা নিহতের পর ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙতে শুরু করেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। একই সঙ্গে শহরটির একটি এলাকার বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার হেবরনের একটি সামরিক চেকপোস্টে দুই ফিলিস্তিনির গুলিতে ইসরাইলের দুই সেনা নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ অভিযান শুরু হয়। হামলার পর ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হেবরনে পূর্ণ অবরোধের ঘোষণা দেয়।

এর আগে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো পশ্চিম তীরে চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তিনি বলেন, হেবরন ও হালহুল শহর ঘিরে অবরোধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তা অন্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

হামলার স্থান ও আশপাশের এলাকার চেহারা বদলে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে জেনিন, তুলকারেম, নুর শামস ও আল-ফারা শরণার্থীশিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ওই অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন মহল্লা খালি করে দেওয়া হয়েছিল।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, হেবরনে কয়েক দিন ধরে অভিযান চালানো হবে। তাদের দাবি, অভিযান হামলাকারীদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো শনাক্ত করে ধ্বংস করা হবে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্ধারিত তিনটি পথ দিয়ে এলাকা ছাড়তে পারবেন। তবে বের হওয়ার সময় তাদের নিরাপত্তা যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে পাওয়া গেলে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পাঠানো হবে।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে হামলাকারীদের বাড়িঘরের মানচিত্র তৈরি, হেবরন ও হালহুলের বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ, সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন অবৈধ স্থাপনাও ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় বাড়িঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি আবাসিক ভবনের বাসিন্দাদের উদ্দেশে এক ইসরাইলি সেনা বলছেন, ‘আপনাদের সরে যাওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হলো।’

এদিকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি মহল্লা খালি করার ঘোষণা দিয়ে নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ উত্তর পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে চালানো ব্যাপক উচ্ছেদ ও ধ্বংসযজ্ঞের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নোভাক জানান, ‘ইসরাইল আগেভাগেই তাদের পরবর্তী অপরাধের ঘোষণা দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে হেবরনের এ হামলা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। এদিকে তার প্রধান নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ফিলিস্তিন #ইসরাইল