দেশজুড়ে

চাঁদরাতে দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ, পুলিশের ফাঁকা গুলি

ছবি: সংগৃহীত

দোকানের সামনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে  দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মহসিন মিয়া (মধু) ও শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আনার মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৯ জনের আহত হয়েছেনএ ঘটনায় মহসিন মিয়াসহ ১৪ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।

রোববার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত একটার দিকে শহরের গদার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান,  সাবেক মেয়র মহসিন মিয়ার বিনা লাভের বাজারনামক স্টলের সামনে টমটম (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) রাখা নিয়ে চালকদের সাথে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। চালকদের পক্ষে মহসিন মিয়ার সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়ান শ্রীমঙ্গল ইউপির সাবেক সদস্য আনার মিয়া। এ খবর অটোরিকশা চালকদের এলাকা পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামে পৌঁছালে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরে আসেন। অপর পক্ষে মহসিন মিয়ার লোকজনও শহরে জড়ো হন।

দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। পরে সেনাবাহিনী মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শহরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাত একটা থেকে শ্রীমঙ্গল শহর খালি হয়ে যাওয়া শুরু করে। তাঁরা প্রতিবছর ঈদের আগের রাতে সারা রাত দোকান খোলা রাখেন। এবার এমনিতেই বেচাবিক্রি কম। এর মধ্যে মারামারির কারণে অনেক মালামাল অবিক্রীত থেকে গেছে। অনেকেই ঈদের কেনাকাটা করতে পারেনি। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি বলেন,  শহরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুলিশ ৫৬ রাউন্ড শটগানের ফাঁকাগুলি ছুড়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা মহসিন মিয়াসহ ১৪ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংঘর্ষে উপজেলার সবুজবাগ এলাকার জয় চৌধুরী নামের একজন পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়

আই/এ

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন