প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী
সুনামগঞ্জ থেকে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে ভোলার মনপুরায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। ওই তরুণী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনগত রাতে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ (১৬ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া।
পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জের শ্রী নারায়ণপুর এলাকার ওই তরুণীর সাথে মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চট্টগ্রামের একটি কারখানার শ্রমিক মো. সজিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বুধবার ওই তরুণী সজিবের সাথে দেখা করতে মনপুরায় আসেন।
বিয়ে না হওয়ায় স্থানীয়দের চাপের মুখে তারা সজিবের চাচার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি সালিশের মাধ্যমে ওই তরুণ-তরুণীকে ইদ্রিস মাঝি নামে এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়।
সেখান থেকে মাকসুদ, আলামিন ও শাহিন নামের তিন যুবক তাদের ঢাকাগামী লঞ্চে তুলে দেয়ার কথা বলে গতকাল রাত ১০টার ইদ্রিস মাঝির ঘর থেকে বের হয়।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ,লঞ্চঘাট যাওয়ার পথে নতুন বেড়ি এলাকায় অভিযুক্তরা প্রেমিক সজিবকে মারধর করে আটকে রাখে। এরপর মাকসুদ ও আলামিন তরুণীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। প্রেমিক সজিব কৌশলে তাদের থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী ভুট্টো মাঝির বাড়িতে গিয়ে সাহায্য চান।
ভুট্টো মাঝি জানান, রাত ১২টার দিকে সজিব চিৎকার করতে করতে তার বাড়িতে আসে। এলাকাবাসীকে নিয়ে খুঁজতে বের হলেও তখন তাদের পাওয়া যায়নি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল চালক শাহিন ওই তরুণীকে নিয়ে ভুট্টো মাঝির বাড়িতে হাজির হলে স্থানীয়রা তরুণীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সে সময় উপস্থিত সবার কাছে ওই তরুণী তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
খবর পেয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ভুক্তভোগী তরুণী ও সজিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মনপুরা থানার ওসি মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, 'ভিক্টিম বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আই/এ