আন্তর্জাতিক

কেন হামলা হচ্ছে বুঝতে পারছে না গাজাবাসী

গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত বেড়ে ৩১

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জন শিশু রয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলার কারণ নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছেন গাজার বাসিন্দারা—কেন, কী কারণে আবারও এভাবে বোমাবর্ষণ চলছে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তারা পাচ্ছেন না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। মানুষ বুঝতে পারছে না সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, বা তাদের দৈনন্দিন জীবন কোন দিকে গড়াচ্ছে। তাদের কাছে যা পরিষ্কার, তা হলো—যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি দখলদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। গাজাবাসীর আশঙ্কা, এই অনিশ্চয়তা ও সহিংসতাই হয়তো তাদের নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে।

এই হামলা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন রাফা সীমান্ত পুনরায় খোলার খবরে গাজাবাসীর মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সেই আশাও ছিল সতর্ক ও ভঙ্গুর, কারণ সবাই জানে—গাজার বহু এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীই মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে।

এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। 

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সহায়তায় তারা হামাস ও প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ–এর কমান্ডার ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।

সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, পূর্ব রাফাহ এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে আটজন যোদ্ধাকে বের হতে দেখা যায়, এরপরই গাজাজুড়ে হামলা শুরু হয়। তাদের ভাষ্যমতে, এতে চারজন ‘কমান্ডার’সহ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইসরাইল আরও দাবি করেছে, তারা একটি অস্ত্রের গুদাম, একটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং মধ্য গাজায় দুটি রকেট উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসবের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে গাজায় সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণকে হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘প্রতিক্রিয়া’ বলে যে দাবি ইসরাইল করেছে, তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। 

সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, এই দাবি নাগরিকদের ওপর চালানো হামলাকে যুক্ত করার ‘নির্লজ্জ ও করুণ প্রচেষ্টা’ ছাড়া কিছু নয়।

তিনি বলেন, এই বক্তব্য মধ্যস্থতাকারী দেশ ও তথাকথিত আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ। হামাসের মতে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ভেঙে পরিকল্পিতভাবেই গাজায় সহিংসতা বাড়াচ্ছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন