আন্তর্জাতিক

৯ম তলা থেকে লাফ দিয়ে ভিডিও গেমে আসক্ত ৩ বোনের আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত

বহুতল ভবনের নবম তলা থেকে একে একে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তিন বোন। অভিযোগ রয়েছে, তারা একটি কোরিয়ান ‘লাভ গেম’-এর টাস্কে মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ভারতের গাজিয়াবাদে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আত্মহত্যার আগে তিন বোন—বিশিকা (১৬), প্রাচি (১৪) ও পাখি (১২)—ঘরটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে। পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করার আগেই তারা জানালা দিয়ে একে একে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

জানা গেছে, ২০২০ সালের কোভিড–১৯ মহামারির সময় থেকে তারা ওই গেম খেলার অভ্যাস গড়ে তোলে। এনিয়ে বাবা–মায়ের বকাঝকা ও শাসন পেলেও টাস্কভিত্তিক অনলাইন গেমটির প্রতি তাদের আসক্তি ক্রমেই বেড়ে যায়। এমনকি তারা নিজেদের জন্য কোরিয়ান নামও রেখে নিয়েছিল। তিন বোন ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। খাওয়া, গোসল, ঘুমসহ দৈনন্দিন প্রায় সব কাজই তারা একসঙ্গে করত।

তাদের বাড়ি থেকে হওয়া আট পাতার একটি নোট উদ্ধার করা হয়। নোটে কাঁদতে থাকা একটি ইমোজি আঁকা ছিল। সেখানে তারা লিখেছে, তারা কোরিয়া ছেড়ে যেতে পারবে না এবং কেউ তাদের গেম ছাড়াতে পারবে না।

ডায়রিতে হিন্দিতে লেখা অংশে বলা হয়েছে—ডায়রিতে যা কিছু লেখা আছে, সবই সত্য, সেগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বাবার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। তাদের ঘরের দেয়ালেও একটি লেখা পাওয়া যায়, যেখানে বলা ছিল তারা ভীষণ একা অনুভব করছে।

পুলিশ জানায়, পড়াশোনায় মেয়েরা খুব একটা ভালো ছিল না এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে গত দুই বছর ধরে তারা স্কুলেও যায়নি। তাদের নিজস্ব মোবাইল ফোন ছিল না। বাবার ফোন ব্যবহার করেই তারা গেম খেলত।

নিহতদের বাবা চেতন কুমার বলেন, তিনি ওই গেমটির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি জানান, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এমন ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর জীবনে না ঘটে—এটাই তার প্রার্থনা। তিনি অন্য অভিভাবকদের অনুরোধ করেন, যেন তারা সন্তানদের ভিডিও গেম থেকে দূরে রাখেন। তার ভাষায়, গেমটির কথা জানা থাকলে তিনি কখনোই মেয়েদের এটি খেলতে দিতেন না।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন