এপস্টিন–কাণ্ডে তাদের সাক্ষ্য সরাসরি প্রচারের দাবি ক্লিনটন দম্পতির
বর্তমানে ওয়াশিংটনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জেফরি এপস্টিন কাণ্ড। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের আড়ালে কী কী গোপন ছিল—তা নিয়ে নিত্য নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসে। আর সেই বিতর্কের মাঝেই সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তবে তারা চান, এই শুনানি হোক প্রকাশ্যে—সবার সামনে।
এপস্টিনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং তার অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করছে কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি। প্রথমে এই কমিটি ক্লিনটন দম্পতিকে রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্য দেয়ার নির্দেশ দেয়। শুরুতে তারা আপত্তি তুললেও, কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগে ভোট নেয়ার হুমকির পর শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।
শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিল ক্লিনটন লেখেন, বন্ধ কক্ষে শুনানি হলে তা প্রহসনের বিচারের মতো হবে।
তিনি বলেন, “আসুন খেলা বন্ধ করি এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় জনসমক্ষে শুনানির মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হোক।”
হিলারি ক্লিনটনও একই অবস্থান নেন।
তার ভাষ্য, “যদি লড়াই হয়, তবে তা জনসমক্ষেই হোক।”
তিনি আরও জানান, তারা যা জানেন তা ইতোমধ্যে কমিটিকে জানানো হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, রিপাবলিকানরা এই তদন্তকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এপস্টিনের দীর্ঘদিনের সহযোগী ছিলেন, অথচ তাকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি।
গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন মামলার ৩০ লাখের বেশি নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন এপস্টিন। প্রকাশিত নথিতে বিল ক্লিনটনের নাম একাধিকবার এলেও, কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার বা হিলারি ক্লিনটনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিল ক্লিনটন পূর্বে স্বীকার করেছেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাজের সূত্রে তিনি এপস্টিনের উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে তিনি কখনো এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন জানিয়েছেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার বলার মতো কোনো যোগাযোগ ছিল না; তিনি কখনো তার বিমানে ওঠেননি বা দ্বীপে যাননি।
এসি//