আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলা ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গী হলো ইউক্রেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। আর এ সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে ইউক্রেন। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিসিসি–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কিয়েভ, যাতে ইরানের হামলা মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা করা যায়। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান ও বাহরাইনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন জেলেনস্কি।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

জেলেনস্কি তার মন্ত্রী ও সামরিক কমান্ডারদের এমন পরিকল্পনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন—যা মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা করবে, তবে ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা দুর্বল করবে না।

তিনি আরও বলেন, জীবনরক্ষা করতে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ইউক্রেন সাহায্য করতে পারে।

এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ছয় দিনে গড়িয়েছে। দিনদিন দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়ছে। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ এক হাজারের বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন