যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ইসরাইলের ইউটার্ন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরাইল ও লেবানন উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় এই সমঝোতা হয় বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে ইসরাইল শর্ত হিসেবে বলেছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অবশ্যই ইসরাইলের ওপর সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
বুধবার (০৩ জুন) অনুষ্ঠিত সংলাপে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়।
কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই অবস্থান পরিবর্তন করে ইসরাইল।
বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি স্থল অভিযান আপাতত অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের কারণে বাস্তুচ্যুত লেবানিজ নাগরিকদের এখনই নিজ বাড়িতে ফেরা সম্ভব হবে না।
ওয়াশিংটন আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা আসার এক দিনের মধ্যেই তার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। চুক্তিটি মূলত হিজবুল্লাহর গোলাবর্ষণ বন্ধের শর্তের ওপর নির্ভর করছে।
এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে ইসরাইল দখল করা প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বোফোর্ট দুর্গ এলাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযান চলবে এবং ইসরাইলি ভূখণ্ডে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বৈরুতে হামলা চালানোর অধিকারও ইসরাইলের রয়েছে।
এর আগে লেবানন ও ইসরাইল মার্কিন সমর্থিত নতুন একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এপ্রিল মাসে শত্রুতা বন্ধে প্রথমে একটি চুক্তি হলেও মে মাসে তা বাড়ানো হয়, যদিও বাস্তবে সহিংসতা অব্যাহত ছিল।
গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন। একই দিনে উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালায়। এসব ঘটনার পর নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা আগের চুক্তিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়।
চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলা এবং পরবর্তী উত্তেজনার পর থেকেই এই সংঘাত আরও তীব্র রূপ নেয়।
সূত্র: রয়টার্স
এসি//