গোপন তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে চীন–রাশিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে সহায়তার বিষয়ে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে নতুন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, চীন ইরানকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনার অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে, যাতে তেহরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে চীনের অবস্থান তুলনামূলক সতর্ক বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের মতে, বেইজিং এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে দেখতে চায়, কারণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়া ও চীনের সরাসরি প্রভাবকে বড় কোনো বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
এখন পর্যন্ত সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া বা চীনের সহায়তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে রাশিয়া সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এটিকে “অযৌক্তিক সশস্ত্র আগ্রাসন” বলে অভিহিত করেছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন শক্তি সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া, চীন ও ইরান রাশিয়াকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সহায়তা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার সেনা, ২০০টির বেশি যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্র্যাড কুপার। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সংঘাত কতদিন চলতে পারে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি।
এসি//