আন্তর্জাতিক

নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে যীশু খ্রিস্টের বেশে দেখা যাচ্ছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে তার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা উঠেছে।

এদিকে, ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে, যা ধীরে ধীরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে।

শেয়ার করা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প যীশুর মতো পবিত্র পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার শরীর থেকে জ্যোতি নির্গত হচ্ছে।

অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি এক মুমূর্ষু ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে অলৌকিক উপায়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন, আর চারপাশে সেনা সদস্য ও নার্সরা বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন।

ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে অসম্মানজনক ও স্পর্ধাজনক বলে আখ্যা দিয়েছে।

সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা নৈতিক সীমার লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা একে ডিজিটাল আর্ট বা নিছক কৌতুক হিসেবেই দেখছেন।

ছবিটি পোস্ট করার ঠিক আগেই ট্রাম্প ভ্যাটিকানের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে চরম বামপন্থী এবং দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পোপ লিও অপরাধীদের প্রতি সদয় এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী।

ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি ভালো কাজ করছেন না। আমি এমন কোনো পোপ চাই না যিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া সমর্থন করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন বলেই পোপ তাঁর সমালোচনা করছেন।

মূলত ইরান এবং ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে পোপ ও ট্রাম্পের মধ্যে এই দূরত্বের সৃষ্টি। গত শনিবার সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক প্রার্থনা সভায় পোপ লিও কারো নাম না করে বলেন, যুদ্ধের পেছনে সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না যাদের হাত রক্তে রাঙা।

আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পথে বিমানে বসেই পোপ লিও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের জবাব দেন।

তিনি বলেন, ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে শান্তির যে আহ্বান জানানো হয়, তা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়; বরং এটি যিশুর সুসমাচারেরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনকে তিনি ভয় পান না।

পোপের ভাষায়, তার বার্তাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অর্থ হলো ধর্মের মূল বক্তব্যই না বোঝা।

তিনি আরও বলেন, চার্চের শান্তির মিশন তিনি অব্যাহত রাখবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির এই মিশ্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জনমতকে আরও বিভক্ত করে তুলছে। ট্রাম্পের ‘যিশু অবতার’ ইস্যু এবং পোপের সঙ্গে তার এই দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন ধরনের মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

 

সূত্র: এপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন