আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের হঠাৎ ইউ-টার্ন!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই আপাতত পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ইরান আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।

এদিকে, ইরান এখনো এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের অবস্থান পরে জানানো হবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ছিলেন এবং ইরানকে সময়সীমা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদ তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি পাকিস্তানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিতও দেন।

তবে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও জটিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে ‘যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে এটিকে যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে তেহরান তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত মূলত কূটনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি কৌশল হতে পারে। স্টিমসন সেন্টার-এর বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন মনে করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি এগোয়নি এবং বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে সংকট পুরোপুরি কাটেনি—এখন দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে সম্ভাব্য আলোচনার পরবর্তী ধাপের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হতে পারে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন