ইরানের ৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। একই সঙ্গে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে তেহরানকে সংকটে ফেলা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করতে পেরেছি। এর সঙ্গে সম্প্রতি আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট পরিমাণ প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, গত বছরের মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক চাপের অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আবারও চাপ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বেসেন্ট আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমাতে চাপ দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরানি তেল কেনা দেশগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানি তেলের ক্রেতাদের জানিয়েছি, যারা তাদের ব্যাংকিং বা শিল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি তেল লেনদেন চলতে দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।’
তিনি দাবি করেন, অর্থনৈতিক চাপ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করবে।
তবে ইরান এসব পদক্ষেপকে উপহাস করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে স্কট বেসেন্টের পরামর্শকে ‘আবর্জনা’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
এমএ//