চুক্তি চূড়ান্ত হলেই খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত থামাতে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি এখন শেষ ধাপে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি আবার আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শনিবার (১৩ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় একটি সমঝোতা কাঠামো তৈরি হয়েছে। এতে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী ধাপে হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি বড় সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে ১৪টি ধারা রয়েছে। তবে ট্রাম্প পরে দাবি করেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার মিল নেই।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান নীতিগতভাবে সমঝোতা স্মারকে একমত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ভেতরে চুক্তি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত রয়েছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তির পরবর্তী ধাপে ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা অথবা ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে এ প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।
অর্থনৈতিক সুবিধার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। শুরুতেই কোনো অর্থ ছাড় বা জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। বরং ইরান শর্ত মানলে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশটির পুনঃ অংশগ্রহণের পথ তৈরি করা হবে।
সমঝোতার আরেকটি বড় শর্ত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করা। এ আলোচনায় লেবাননের হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
আরাঘচি বলেন, আলোচনার শেষ পর্যায়ের কাজ শেষ হলেই চুক্তি সই ও ঘোষণা করা হবে। এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আরাঘচি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসতে পারে। এর আগে ইরান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের প্রস্তাব তুলেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অবাধ অধিকার বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, এই সমঝোতা লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত নিরসনের পথও খুলে দিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এমএ//