আন্তর্জাতিক

হরমুজে ট্রাম্পের ‘নতুন প্রকল্প’ ঘোষণা, বাধা পেলেই কঠোর জবাবের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে টানা ৩৮ দিনের সংঘাতের পর বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকি ও উসকানিমূলক অবস্থানের জেরে তেহরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে আটকা পড়ে আছে আট শতাধিক জাহাজ, যেগুলোর বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

এই পরিস্থিতিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার (০৪ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল থেকে, যা বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত, হরমুজ প্রণালিতে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এ মিশনে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

রোববার (০৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল, গ্যাস ও জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে।

ট্রাম্প তার পোস্টে জানান, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয়া। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, বহু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ বর্তমানে হরমুজে আটকা আছে, অথচ এসব দেশের অনেকেই চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িত নয়। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে নিরপেক্ষ জাহাজ ও তাদের নাবিকরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।

ট্রাম্প এ প্রকল্পকে ‘মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণে বহু জাহাজে খাদ্য ও জরুরি সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

তার ভাষায়, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়িত হলে এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই উপকৃত হবে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এ উদ্যোগে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ৮৫০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা রয়েছে। যদিও এসব জাহাজ মুক্ত করার নির্দিষ্ট কৌশল ট্রাম্প বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেননি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সরাসরি এসকর্ট ব্যবস্থার বদলে জাহাজ চলাচল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ পরিচালিত হতে পারে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের একশোর বেশি যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য প্রস্তুত রয়েছে।

ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেছেন, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে হরমুজ থেকে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে এবং অঞ্চলটি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন