ইরান চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, এখন আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাত অবসানে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা “প্রায় সম্পন্ন” হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করা হবে। তবে চুক্তিটি এখনো যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আলোচকদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “চুক্তির শেষ পর্যায়ের বিষয় ও বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার পৃথক ফোনালাপ হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে কাজ চালিয়ে যাবে। খুব শিগগিরই পাকিস্তানে নতুন করে বৈঠকে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে।
মিসরের প্রেসিডেন্সিও সব পক্ষকে কূটনৈতিক উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে গেল সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্রুত চুক্তি না হলে আবারও হামলা চালানো হবে। পরে তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির পথে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের জব্দ অর্থের বিষয়গুলো এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
এমএ//