আন্তর্জাতিক

জ্বলছে হোটেল, পালাচ্ছেন মালিক

‘রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল’—ইতিহাসের সেই বহুল আলোচিত প্রবাদ যেন নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির এক মর্মান্তিক ঘটনায়। মালভিয়া নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যখন অতিথিরা জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন, তখন অভিযোগ উঠেছে হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজ ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। ওই অগ্নিকাণ্ডে বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (০৩ জুন) সকালে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ নামের হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজ ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে লাভকেশ বাজাজ স্বীকার করেছেন যে, হোটেলে আগুন দেখতে পেলেও তিনি সেখানে না থেকে গাড়ি নিয়ে চলে যান। পরে তিনি নির্দিষ্ট কোনো স্থানে না গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাজাজ ভবনটি কিনে সেখানে হোটেল ও গেস্ট হাউসের কার্যক্রম শুরু করেন। এর আগে ভবনটিতে একটি খাদি দোকান পরিচালিত হতো। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি তখন থেকেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ প্রকল্পের আওতায় মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি থাকলেও ভবনের বেসমেন্টসহ বিভিন্ন তলায় মোট ২৫টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। ভবনটির মালিক ছিলেন লাভকেশ বাজাজ, তবে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জাই মিশ্র নামের এক ব্যক্তিকে। হোটেলের লাইসেন্সও ছিল তার নামেই। বর্তমানে জাই মিশ্রকে খুঁজছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। এছাড়া অধিকাংশ জানালা বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রধান দরজাটি ছিল সেন্সরনিয়ন্ত্রিত। ফলে আগুন লাগার পর অতিথিদের দ্রুত বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভবনের বেসমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট কাজ করে। উদ্ধার অভিযানে অন্তত ৫৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিহতদের মধ্যে গুরুগ্রামের একটি পরিবারের আট সদস্যও রয়েছেন। চিকিৎসাধীন এক স্বজনকে দেখতে তারা দিল্লিতে এসে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা সকালের নাশতা করছিলেন, ঠিক তখনই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই পরিবারের মাত্র একজন সদস্য জীবিত আছেন এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া লাভকেশ বাজাজকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন