গরমে ঘরের খাবারও হতে পারে ঝুঁকির কারণ, সতর্ক থাকবেন যেভাবে
গ্রীষ্মের তীব্র গরমে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন শুধু বাইরের বা রাস্তার খাবার থেকেই পেটের সমস্যা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে ঘরে রান্না করা খাবারও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রা ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু জন্মায়। বিশেষ করে রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পড়ে থাকলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমন খাবার খাওয়ার পর বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, জ্বর এমনকি শরীরে পানিশূন্যতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
কোন খাবারগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
কিছু খাবার তুলনামূলক দ্রুত নষ্ট হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, মাংস, সামুদ্রিক মাছ, রান্না করা ভাত এবং কাটা ফল। অনেক সময় খাবারের গন্ধ বা স্বাদ স্বাভাবিক থাকলেও তাতে ক্ষতিকর জীবাণু তৈরি হতে পারে। ফলে বাহ্যিকভাবে ঠিক মনে হলেও সেই খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন
দ্রুত সংরক্ষণ করুন
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে না রেখে ঠান্ডা হওয়ার পর দ্রুত ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজের তাপমাত্রা সঠিক আছে কি না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
বারবার গরম করা এড়িয়ে চলুন
একই খাবার বারবার গরম করলে পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি খাবারের মানও নষ্ট হতে পারে।
রান্নাঘরের সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখুন
কাঁচা মাছ বা মাংস কাটার পর ছুরি, কাটিং বোর্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। একই সরঞ্জাম পরিষ্কার না করে অন্য খাবার প্রস্তুতে ব্যবহার করা উচিত নয়।
হাতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন
রান্নার আগে এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমায়।
গরমে অতিরিক্ত সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া খাবার এবং আগে থেকে কেটে রাখা ফল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ এসব খাবারে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
গরমের সময় খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সামান্য সচেতনতা আপনাকে এবং পরিবারের সদস্যদের খাদ্যজনিত অসুস্থতা থেকে নিরাপদ রাখতে পারে।
সুস্থ থাকতে তাই খাবারের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
পি/ডি