ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের লড়াই, ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ২৩৫
পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২৩৫ জন নিহত এবং অন্তত ৪,৩০০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলভারাডো।
তিনি বলেন, হতাহতের ঘটনাগুলো মূলত উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরাতেই ঘটেছে। এ অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং আমরা ফিল্ড হাসপাতালও চালু করেছি।”
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন , উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় রাজ্যে ১০০টিরও বেশি ভবন ধসে পড়েছে। লা গুয়াইরা এলাকায় ৭০ হাজারেরও বেশি পরিবার ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার ওই রাজ্যে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ৪ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করছে।
এদিকে জাতিসংঘের শিশু অধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ভেনেজুয়েলায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ভূমিকম্পের ফলে হাজার হাজার শিশু ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেছেন, “ভেনেজুয়েলা থেকে আমরা যেসব দৃশ্য দেখছি এবং সেখানে কর্মরত সহকর্মীদের কাছ থেকে যেসব ঘটনা শুনছি, তা হৃদয়বিদারক।”
ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে প্রতিবেশী দেশ এল সালভাদর থেকে অন্তত ১৮৮ জন উদ্ধারকর্মী দেশটিতে এসে পৌঁছেছেন।
ভূমিকম্প-পরবর্তী সহায়তা প্রদানকারী বেশ কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশের মধ্যে এল সালভাদর অন্যতম।
এর আগে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি কর্মী, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী—যার মধ্যে ৫০ টন ত্রাণও অন্তর্ভুক্ত—বহনকারী তিনটি বিমান পাঠাচ্ছেন।
আই/এ