খেলাধুলা

কৌশলে জয়, আচরণে মুগ্ধতা—জাপানিদের পাশে দাঁড়িয়ে হৃদয় জিতলেন আনচেলত্তি

ফুটবলে কখনো কখনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে। আর সেই পরিবর্তনের নেপথ্যে থাকে একজন কোচের সিদ্ধান্ত, একটি কৌশল আর খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের রোমাঞ্চকর জয়ের গল্পটাও ঠিক তেমনই—যেখানে প্রথমার্ধের হতাশা পেরিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নতুন রূপে ফিরেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে মনে হচ্ছিল, বড় অঘটনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল। এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। কিন্তু বিরতির পর মাঠে নামা ব্রাজিল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের মূল কারিগর ছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিরতিতে তিনি শুধু কৌশল বদলাননি, বদলে দিয়েছিলেন দলের মানসিক অবস্থাও।

আনচেলত্তি জানান, বিরতির সময় তিনি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনায় অটুট থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, সুযোগ আসবেই—শুধু নিজেদের কাঠামো ঠিক রাখতে হবে।

আর ঠিক সেটিই ঘটল।

প্রথমার্ধে ব্রাজিল আক্রমণে থাকলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে বারবার সমস্যায় পড়ছিল। ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে জায়গা তৈরির চেষ্টা করছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে প্রতিপক্ষের বক্সে একের পর এক ক্রস দিতে শুরু করে ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে ১২টি ক্রস করা দলটি দ্বিতীয়ার্ধে বক্সে বল পাঠায় ২৮ বার। আর সেই আক্রমণের ফল আসে ৫৬ মিনিটে।

গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েসের ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান ক্যাসেমিরো। সমতায় ফেরে ব্রাজিল।

এর আগে ২৯ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল জাপান। দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিলকে আটকে রেখে তারা তৈরি করেছিল বড় চমকের সম্ভাবনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা আর মানসিক দৃঢ়তায় ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেয় ব্রাজিল।

যোগ করা সময়ের ৯৬ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোল পায় ব্রাজিল।

শেষ বাঁশির পর আনন্দ আর হতাশার দৃশ্য একসঙ্গে দেখা যায় মাঠে। প্রায় পুরো ম্যাচজুড়ে লড়াই করা জাপানি ফুটবলারদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সেই মুহূর্তে জয় উদ্‌যাপনের বদলে অন্য এক পরিচয় তুলে ধরেন আনচেলত্তি। তিনি ছুটে যান জাপানের খেলোয়াড়দের কাছে। সান্ত্বনা দেন, শুভেচ্ছা জানান, সম্মান জানান তাদের অসাধারণ লড়াইকে।

ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়র, ম্যাথিউস কুনহা এবং গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও এগিয়ে এসে জাপানি খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ান।

একদিকে মাঠে ছিল কৌশলের জয়, অন্যদিকে ছিল ফুটবলের সৌন্দর্য। আনচেলত্তির একটি বিরতির সিদ্ধান্ত যেমন বদলে দিয়েছে ম্যাচের ফল, তেমনি তার মানবিক আচরণ মনে করিয়ে দিয়েছে—ফুটবল শুধু গোল আর জয়ের হিসাব নয়, এটি সম্মান আর আবেগেরও গল্প।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন