৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথে ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত দিল্লি
ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও অধিকারকর্মী। তীব্র গরম উপেক্ষা করে দিন-রাত সড়কেই অবস্থান করছেন তারা। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যেও বিক্ষোভ থেকে সরে যাননি আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ নামে। তারা অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সদস্য।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর আন্দোলনে নতুন গতি এসেছে।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অনশনে বসেছেন।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মে মাসে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার কিছু তরুণ সাংবাদিক ও কর্মীকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন—‘সব ককরোচ যদি একসঙ্গে হয়?’ সেই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এআই-এর সহায়তায় সংগঠনের প্রতীক তৈরি করা হয়। এরপরই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

প্রথমে এটি ছিল ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের একটি অনলাইন উদ্যোগ। পরে এটি বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং বারবার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সংগঠনটির অনুসারী প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ।
গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ করে সংগঠনটি। এরপর দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি পালন করে আবার জন্তর মন্তরে ফিরে আসে তারা। এবার তাদের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের সহযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও সংগঠনটিকে দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন।
সরকার নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা নিলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমেনি। তাদের দাবি, শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনস্থলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবি—এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ও নাম দিয়ে একটি স্মৃতি দেয়ালও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন মানুষ ফুল দিচ্ছেন এবং সমর্থনের বার্তা লিখছেন।

আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের একটি দাবি মাত্র। তবে তাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতা।
এসি//