আন্তর্জাতিক

খামেনিকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে আজও জনস্রোত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার (০৬ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে জড়ো হবেন লাখো মানুষ। ইরানের দাবি, এই শোকসমাবেশে উপস্থিতির দিক থেকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম জানাজার রেকর্ড গড়তে পারে এই আয়োজন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেখানে তার মরদেহ এবং পরিবারের সদস্যদের মরদেহ রাখা হয়।

সোমবার তেহরানের রাজপথে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিশাল শেষযাত্রার আয়োজন করা হবে। পরে শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকেও নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাজধানী তেহরানে বিপুল মানুষের সমাগম অব্যাহত থাকতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ফ্রিডম স্কয়ারে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিন নেওয়া হবে।

পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরাকের কারবালা ও নাজাফ শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান ইরানের মাশহাদে পৌঁছাবে মরদেহ। সেখানেই ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় খামেনি এবং ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধের দাবিও জানান তারা।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই আয়োজনকে শুধু ধর্মীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধের মনোভাব এবং রাষ্ট্রীয় সংহতির প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে খামেনির কফিনের পাশে উপস্থিত ছিলেন তার তিন ছেলে। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে অংশ নেননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আহত হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসছেন না।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে। একই সঙ্গে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব নিয়মিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হলেও ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আরও একদিন বন্ধ থাকবে।

এদিকে, ৯ জুলাই মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠানের দিন শহরের আকাশসীমা এবং শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। তবে মাশহাদগামী ফ্লাইট ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন