আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের হোতা মামুনকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গেল ৮ জুলাই ৩৯ বছর বয়সী সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। পরে তাকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ল্যারেডোর একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়।

সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী নিয়ে আসার একাধিক অভিযোগ এবং অবৈধ প্রবেশে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের প্রথমে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে নেওয়া হতো। এরপর দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার একাধিক দেশ অতিক্রম করে তাদের মেক্সিকো সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া হতো। শেষ ধাপে রিও গ্রান্ডে নদী পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করতেন তারা।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, এই চক্রে আল-মামুনের দায়িত্ব ছিল সাও পাওলোতে অভিবাসীদের থাকার ব্যবস্থা করা এবং পরবর্তী যাত্রার সমন্বয় করা। এ জন্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার নেওয়া হতো।

অভিযোগপত্রে আরও দুই বাংলাদেশির নাম এসেছে। মোহাম্মদ মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের আবাসন ও পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন। আর মোক্তার হোসেন মনতেরেতে তাদের থাকার ব্যবস্থা এবং রিও গ্রান্ডে নদী পার হওয়ার নির্দেশনা দিতেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৩ বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। 

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানবপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনের ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এর আগে গেল ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার হন সাইফুল্লাহ আল-মামুন। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ব্রাজিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় পরিচালিত আন্তর্জাতিক তদন্তের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন