যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ফেরাতে তেহরানে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ হিসেবে তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।
বুধবার (২৭ আগস্ট) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, বৃহস্পতিবার তেহরান যাবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। সফরে তিনি ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আল-আনসারি বলেন, বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উপায় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ পুনরায় শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। মতবিরোধ নিরসন ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ—কাতার এই অবস্থানে অটল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের পক্ষ থেকেও শেখ মোহাম্মদের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ক্ষেত্রেও দোহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এর ফলে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও জুলাইয়ে সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়।
এরপর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী কোনো কূটনৈতিক সমাধান হয়নি। বর্তমানে সামরিক তৎপরতা কিছুটা কম থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে।
এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বুধবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তার কোনো তাড়া নেই। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় ধরনের চাপই কার্যকর হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএ//