সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা, আহত ৭৩
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এতে নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, আবহা, জাজান, নাজরান ও খামিস মুশাইত শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি তেল স্থাপনা ও ইউটিলিটি অবকাঠামোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে জাজানে থাকা একটি বড় রিফাইনারিতে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে।
হামলাকে ‘গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র।
এদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দক্ষিণ সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাজান সিটি ফর প্রাইমারি অ্যান্ড ডাউনস্ট্রিম ইন্ডাস্ট্রিজ, নাজরান ও আবহার আরামকোর স্থাপনা এবং খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্য।
ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরব তাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের একটি কারাগারে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। হুতিরা এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এতে এক শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। জাতিসংঘের হিসাবে, কয়েক বছরের সংঘাতে অন্তত দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
নতুন করে সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দাব প্রণালি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হলে সৌদি আরবের তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে এই নৌপথের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এমএ//