জাতীয়

এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ, সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘স্বল্পোন্নত দেশ’ বা এলডিসি শ্রেণি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সহায়তা দরকার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশই বিচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। বিশেষ করে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলো একে অন্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ শনাক্তকরণ সরঞ্জামের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলো সবার জন্য সহজলভ্য করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ভাষণে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। সরকারের দাবি, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ‘কাউকে পেছনে না রাখা’ নীতির সঙ্গে এসব কর্মসূচির বড় একটি অংশের সরাসরি ও পরোক্ষ সামঞ্জস্য রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের উন্নয়ন বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি ২০৩০ সালের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা, অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এবার দেশের ইতিহাসে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে নতুন শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো শিক্ষাক্রমে ‘স্পোর্টস’কে আলাদা বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত জুনে দেশজুড়ে মাসব্যাপী আয়োজিত স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন