দখলকৃত পশ্চিম তীরে গাজার মতো যুদ্ধ শুরুর আহ্বান ইসরাইলি মন্ত্রীর
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের দখলদার অর্থমন্ত্রী ও উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিক বেজালেল স্মোটরিচ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলি পরিভাষায় ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন স্মোটরিচ। তিনি বলেন, সেখানে যুদ্ধ শুরু করে গাজায় ইসরাইল যে ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, একইভাবে পশ্চিম তীরেও অভিযান চালানো প্রয়োজন।
পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে স্মোটরিচ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি একটি ‘সন্ত্রাসী কর্তৃপক্ষ’।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রতি বার্তা কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাজায় হামাসের অবকাঠামো ধ্বংসের মতো পশ্চিম তীরেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবকাঠামো ভেঙে দিতে হবে। সেখানে অস্ত্র, সুড়ঙ্গ বা সশস্ত্র ব্যক্তিদের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা বেড়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ)। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ১ হাজার ৩৩০টির বেশি বসতিস্থাপনকারী হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর মধ্যেই সুক্কোত উৎসব উপলক্ষে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনিদের চলাচলে আরোপ করা এসব বিধিনিষেধ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।
অন্যদিকে রোববার দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণেও উত্তেজনা তৈরি হয়। ইসরাইলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কয়েকশ ইসরাইলি সেখানে প্রবেশ করেন।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা মরক্কো গেট দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তালমুদিক ধর্মীয় আচার পালন করেন। এ সময় আল-আকসা মসজিদ ও পুরোনো জেরুজালেম শহরের আশপাশে ইসরাইলি বাহিনীর নিরাপত্তা তৎপরতা ও বিধিনিষেধ আরও বাড়ানো হয়।
এমএ//