ইশরাকের ফিল্মি স্টাইলের অভিযান নিয়ে তাসনিম জারার কড়া সমালোচনা
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইন সংলগ্ন একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পরিচালিত ওই অভিযানে পিস্তল হাতে তাকে সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এবার এ বিষয়ে সমালোচনা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেনের এই অভিযানের সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে রাজনীতিতে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পোস্টে ডা. তাসনিম জারা লেখেন, অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তার নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাসনিম জারা।

তিনি লেখেন, নতুন কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে শুরুতেই তাকে হাজার হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। বিকল্প হিসেবে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তদবির করতে হয়। অথচ রাজনৈতিক দলগুলো কাদের এবং কী প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, তা দীর্ঘদিন ধরেই সবার জানা।
নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর নির্বাচনী প্রচারের খরচের নির্ধারিত সীমা মেনে চলতে হয়। কিন্তু প্রভাবশালী প্রার্থীরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেই সীমা অতিক্রম করলেও নির্বাচন কমিশন অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করে। ফলে সততার সঙ্গে আইন মেনে নির্বাচন করতে চাওয়া প্রার্থীরাই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন।
ভোটের দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরে তাসনিম জারা লেখেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে সেই দায়িত্বও প্রার্থীদের ওপর এসে পড়ে। প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনী মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রার্থীদেরও নিজস্ব বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়। এমনকি নিজের ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও যদি পেশিশক্তির আশ্রয় নিতে হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এর পাশাপাশি বৈধ পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন অজুহাতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থার এসব সীমাবদ্ধতার কারণে অস্ত্র, সন্ত্রাসী বাহিনী, বিপুল অর্থ ও প্রভাব থাকা ব্যক্তিরাই বেশি সুবিধা পান বলে মন্তব্য করেন তাসনিম জারা। অথচ পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে ভালো মানুষদের অনুপস্থিতি এবং ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা”–এই ব্যবস্থা বজায় রেখে আর কী আশা করবেন?
তার মতে, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার না হলে গুন্ডাতন্ত্রই দেশের মানুষকে শাসন করতে থাকবে।

এসি//