আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের
ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলো কারচুপি করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। এ ঘটনায় পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের তদন্ত দাবি করেছে দলটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বিবৃতিতে লিকুদ দাবি করেছে, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন এবং ইহুদি রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চাওয়া আরব দলগুলো ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি ও অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করেছে।
নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দল দুটি রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছে। আংশিক ফলাফলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। এতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং তার বিরোধী ইহুদিপ্রধান দলগুলোর কোনোটির পক্ষেই নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সহজ হবে না।
নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার বিরোধিতা করে আসছিল নেতানিয়াহুর দল।
সর্বশেষ বিবৃতিতে লিকুদ জানিয়েছে, অভিযোগের সমর্থনে পুলিশ, শিন বেত ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে শত শত সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দেওয়া হচ্ছে। দলটির দাবি, এসব প্রমাণের মধ্যে নগদ অর্থ ও রা’আমের নির্বাচনী স্লিপভর্তি হাজারো খাম, ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের হুমকি ও হামলা, ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে একাধিক ভোটারের প্রবেশ, একই ব্যক্তির একাধিকবার ভোট দেওয়া এবং ভোটের খাম ও ভোটারের সংখ্যায় অসংগতির তথ্য রয়েছে। এছাড়া ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগও করেছে দলটি।
অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লিকুদ।
তবে এর আগে চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির এক কর্মকর্তা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নাকচ করে দেন। ফলে লিকুদের অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা কারচুপির কোনো প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি।
প্রসঙ্গত, আংশিক নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৯টি। জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১৩টি আসন। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন হবে।
এমএ//