দেশজুড়ে

ইউএনও’র আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা

পটুয়াখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার উদ্দীন হাওলাদারের বীর নিবাস নির্মাণের কাজ ৭ মাস ধরে বন্ধ। এর মধ্যে সরকারের বরাদ্দকৃত জায়গা দখলের চেষ্টায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের ওপর হামলা করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও বীর নিবাস নির্মাণের কাজ শুরুর দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন তিনি। পরে এ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অনশন ভাঙিয়েছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনশনরত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার উদ্দীন হাওলাদারের অনশন ভাঙান ইউএনও।

ইউএনও আবু মুছা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আজহার হাওলাদারের জন্য বরাদ্দকৃত বীর নিবাসটির জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। আমরা আগামীকালের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করে সমাধান করব। জমি পরিমাপ করে সকল কাগজ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সব ঠিক থাকলে বর্তমান বীর নিবাস স্থলে কাজ চালু হবে। নয়ত নতুন ভাবে তাকে জমি বন্দোবস্ত দিয়ে বীর নিবাস তৈরির করে দেয়া হবে ।

আজহার উদ্দীন হাওলাদার বলেন, সন্ধ্যায় ইউএনও এসে তাকে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করেন। বিষয়টি সমাধানে দ্রুত আশ্বাসও দেন। শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ থাকায় ইউএনও তার সহকারী দিয়ে কোলে করে নিজের গাড়িতে উঠিয়ে বাসায় পৌছে দেন। সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে সকালে তিনি জানান, ২০০৯ সালে পাঁচ শতাংশ জমি বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিহীন হিসেবে পটুয়াখালী পৌর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তাঁকে তিন শতাংশ সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে ওই জমিতে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২০২৪ সালে একই জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বীর নিবাস বরাদ্দ পান।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০২৫ সালে বীর নিবাসের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়ার পর ২০২৬ সালের মার্চ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থায়নে শুরু হওয়া এই আবাসন প্রকল্প অসমাপ্ত পড়ে থাকলেও কাজ বন্ধের কারণ কিংবা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। বারবার জেলা প্রশাসন ও ইউএনও কার্যালয়ে যাওয়ার পরেও তার সমাধান দেননি।

এদিকে বীর নিবাসের কাজ বন্ধ থাকার মধ্যেই স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্ত তাঁদের সরকারি বরাদ্দের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর পরিবারের সদস্যও তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং বসবাসের অস্থায়ী ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। একদিকে অসমাপ্ত সরকারি ঘর, অন্যদিকে বসবাসের অস্থায়ী আশ্রয়টুকুও হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলাও দায়ের করেছেন তিনি।

উপায় না দেখে আজ সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনশনে বসেন তিনি।

আই/এ

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন