আমরা ইসলামবিদ্বেষী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গেল ১৬ বছরে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, আলেম-ওলামাদের হত্যা করেছে এবং মসজিদে রক্ত ঝরিয়েছে, দেশের মানুষ তাদের আর রাজনীতিতে দেখতে চায় না। এমন মন্তব্য করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
জুমার নামাজের আগে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইসলামবিদ্বেষী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি।’
তিনি বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেও তাদের একজন ছিলেন। এ সময়ে বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষের হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতে চান তারা।
ধর্মের নাম ব্যবহার করে যারা রাজনীতি করছে, তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে। ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশের মানুষের মুক্তি এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে দায়িত্ব সবার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপনের কথাও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি থেকে দেশকে বের করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং রাষ্ট্রের আগের নীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহিয়েছে। এমনকি খালেদা জিয়ার মতো একজন মানুষকেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদের আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকতে হবে এবং প্রত্যেক দলের নিজস্ব আদর্শ থাকতে পারে। তবে যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, আলেম-ওলামাদের রক্ত ঝরিয়েছে এবং মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে, তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
এমএ//