জাতীয় দলের সাবেক পেসার শফিউল ইসলাম সব ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তিনি নিজেই তার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গত ছয় বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছিলেন এই অভিজ্ঞ বোলার।
বয়স ও দীর্ঘদিনের ইনজুরি সমস্যার কারণেই শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন শফিউল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি জানান, এটি তার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চাপানোকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
৩৬ বছর বয়সী এই পেসারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১০ সালের শুরুতে। ওই বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি; তিন সংস্করণেই জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের হয়ে তিনি ৯১টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১০৭টি উইকেট শিকার করেন।
শফিউলের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২০ সালের মার্চে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ক্রিকেট ছাড়ার পর ভবিষ্যতে অন্য কোনো ভূমিকায় এই খেলাটির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে সুযোগ পেলে ক্রিকেটের সঙ্গেই সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শফিউল ইসলামের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় অধ্যায় ছিল ২০১১ সালের বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নবম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন তিনি। একই বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সে সময় বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডও গড়েছিলেন।
২০০৭ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট দিয়ে শুরু হওয়া শফিউল ইসলামের দীর্ঘ পথচলার এখানেই আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি হলো।
এসএইচ//