খেলাধুলা

‘৬ গোলে’ সমালোচনার জবাব দিলো রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

খারাপ সময়টা যেন পেছনে ফেলতেই মরিয়া ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। টানা হতাশাজনক ফলাফল, কোপা দেল রে থেকে ছিটকে যাওয়া, সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দী বার্সার কাছে হার—সব মিলিয়ে মাদ্রিদ ছিল চাপে। এমনকি ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সমর্থকদের দুয়ো ধ্বনিও শুনতে হয়েছিল। ঠিক এমন সময়েই নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচের দুর্দান্ত জয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল লস ব্লাঙ্কোরা। মোনাকোকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৬–১ গোলে।

এই জয়ের মূল নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিউস জুনিয়র। এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন, ভিনিসিউস একটি গোলের সঙ্গে যোগ করেন দুটি অ্যাসিস্ট। এছাড়া ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুড বেলিংহ্যাম একটি করে গোল করেন। আর একটি গোল আসে মোনাকোর আত্মঘাতী ভুলে। বড় এই জয়ে সাত ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে রিয়াল। বিপরীতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে নেমে গেছে মোনাকো।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রিয়াল। পঞ্চম মিনিটেই ডান দিক থেকে ফেদেরিকো ভালভের্দের পাসে প্রথম স্পর্শেই গোল করেন এমবাপ্পে। ২৬ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ভিনিসিউসের অসাধারণ অবদানে আবারও গোল পান তিনি। ডি-বক্সে ঢুকে ভিনিসিউস ডান পাশে বল বাড়িয়ে দিলে নিখুঁত প্লেসিং করে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে।

মোনাকো অবশ্য লড়াই ছাড়েনি। ৩১ মিনিটে জর্ডান টেজের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি দারুণ সেভে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন ম্যাচজুড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়। ৫১ মিনিটে ভিনিসিউসের বাড়ানো বলে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোল করেন মাস্তানতুয়োনো। তিন মিনিট পর ভিনিসিউসের কাটব্যাক ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল পাঠান টিলো কেহরার। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে এবার নিজেই গোল করেন ভিনিসিউস। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের একপাশে করে জায়গা নিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি।

৭২ মিনিটে অবশ্য রক্ষণভাগের অমনোযোগিতায় গোল হজম করে রিয়াল। কোর্তোয়ার পাস বুঝতে না পেরে দানি কাবাইয়োস বল ছেড়ে দিলে সুযোগ পেয়ে টেজে গোল করে ব্যবধান কমান। তবে শেষ হাসি হাসে স্বাগতিকরাই। ৮০ মিনিটে ভালভের্দের থ্রু পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় গোল করে রিয়ালের ষষ্ঠ গোলটি করেন জুড বেলিংহ্যাম।

পরিসংখ্যানে আক্রমণ ও শটের সংখ্যায় দুই দল কাছাকাছি থাকলেও পার্থক্য গড়ে দেয় রিয়ালের নিখুঁত ফিনিশিং এবং ভিনিসিউস-এমবাপ্পের বিধ্বংসী জুটি। শেষ পর্যন্ত সমালোচনার চাপের মধ্যেই বড় জয়ে ছন্দে ফেরার স্পষ্ট বার্তা দিল রিয়াল মাদ্রিদ।

 

এসএইচ// 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #রিয়াল মদ্রিদ #চ্যাম্পিয়ন্স লিগ #মোনাকো #ফুটবল #এমবাপ্পে #ভিনি