আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন ২৯৮টি নির্বাচনি আসনে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও পথসভার মাধ্যমে ভোটের মাঠে নামছেন।
প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা জোরদার করবেন। তবে নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা, সংঘর্ষ ও পেশিশক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মাঠে থাকবে। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও মোতায়েন থাকবেন। নজরদারি জোরদারে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সারাদেশের ২৯৮টি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতিদ্বন্দ্বী ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটের দিন শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ করতে হবে।
ইসি সূত্র জানায়, ৩০০ আসনে জমা পড়া ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে প্রাথমিকভাবে বৈধ ছিল ১ হাজার ৮৫৫টি। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্তভাবে প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন ১ হাজার ৯৮১ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করা হবে।
এমএ//