রাজধানীর নয়াপল্টনে চার বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই শিশুটি শিক্ষকদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার মামলা করলে তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—স্কুল ইউনিফর্ম পরা ৩–৪ বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে-হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিক্ষক শিশুটিকে টেবিলের সামনে বসিয়ে বারবার চড় মারছেন ও ভয় দেখাচ্ছেন। একই সময় এক পুরুষ শিক্ষক স্ট্যাপলার হাতে শিশুটিকে হুমকি দেন। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গেল ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান। তবে মামলার তদন্তে স্কুলটির ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি মামলার প্রধান আসামি।
ভিডিও ও প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় শিশুটির মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভয়ের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা বিষয়টির নিষ্ঠুরতা আরও স্পষ্ট করে।
শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শাস্তির নামে এ ধরনের সহিংসতা শুধু শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং শিশুর মানসিক বিকাশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে। তারা জোর দিয়ে বলেন, পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কোনো ক্ষেত্রেই শিশুদের ওপর শারীরিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
এমএ//