দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসন্ন সুষ্ঠু নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্র এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও স্থাপনা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় মোট ৫ হাজার ৭৬৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ৬ লাখ রাউন্ড গুলি লুট হয়। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এর মধ্যে উদ্ধার করা গেছে ৪ হাজার ৪০৩টি অস্ত্র এবং প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড গুলি। তবে এখনো ২৩ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ৩০৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় আড়াই লাখ রাউন্ড গুলি উদ্ধার বাকি রয়েছে। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চাইনিজ রাইফেল, চাইনিজ এসএমজি, বিপুলসংখ্যক পিস্তল ও শটগান।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিখোঁজ থাকা অস্ত্রগুলোর মধ্যে ১১টি চাইনিজ রাইফেল, ৩১টি চাইনিজ এসএমজি, ২০টি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু পিস্তল, ৪৫০টি নাইন এমএম পিস্তল এবং ৩০৯টি শটগান রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ কে এম শহীদুল হোসাইন বলেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানী ড. জাহিদুল হক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামান। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এসব অস্ত্র টার্গেট কিলিং বা বড় ধরনের নাশকতার কাজে ব্যবহার হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
এসএইচ//