বাংলাদেশ নেই বলেই কি বিশ্বকাপ থেকে মুছে যাবে দেশের কণ্ঠস্বরও?
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি এবার আর শুধু মাঠের খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর প্রভাব পড়েছে মাঠের বাইরের ক্রীড়া সাংবাদিকতাতেও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য এসেছে অস্বস্তিকর সিদ্ধান্ত—ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ কাভারের জন্য কোনো অ্যাক্রিডিটেশন দেয়া হবে না।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তে কার্যত বিশ্বকাপ কাভার থেকে ছিটকে পড়েছেন বাংলাদেশের সাংবাদিকরা। শুধু দল নয়, দেশের গণমাধ্যমকেও বিশ্বকাপের বাইরে ঠেলে দেয়ার এই অবস্থান বিস্ময় ও ক্ষোভ তৈরি করেছে ক্রীড়াঙ্গনে। কারণ, বাংলাদেশ খেলুক বা না খেলুক—বিশ্বকাপ কাভার করার ক্ষেত্রে বরাবরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বাস্তবতা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আইসিসির পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মেইলে স্পষ্ট করে বলা হয়, যেহেতু এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ নিচ্ছে না, তাই বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভারের অনুমতিও দেয়া হচ্ছে না।
আইসিসির এই ব্যাখ্যা ভালোভাবে নিতে পারেননি দেশের সাংবাদিকরা। কারণ, বিশ্বকাপ কাভার করা কেবল অংশগ্রহণকারী দলের ওপর নির্ভর করে—এমন নজির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব একটা নেই। বরং বিশ্বজুড়ে আগ্রহ, দর্শক ও গণমাধ্যমের উপস্থিতিকেই বিশ্বকাপের প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এর আগেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছিলেন, ভারত শুধু বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য নয়, দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও অনিরাপদ। সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই আইসিসির এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আগের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে। সেই পরিকল্পনা ধরেই আইসিসি নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে সাংবাদিকরা বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। শুধু বাংলাদেশের ম্যাচ নয়, পুরো টুর্নামেন্ট কাভার করার প্রস্তুতিও ছিল তাদের।
বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত খেলুক বা না খেলুক—বিশ্বকাপ কাভার করতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিকের ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রস্তুতি আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আইসিসির সিদ্ধান্তে সেই প্রস্তুতিতে হঠাৎ করেই টান পড়ল।
ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা মাঠে থেকেছেন। এমনকি ১৯৯৯ সালের আগেও, যখন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দল ছিল না, তখনও একাধিক আসর কাভার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশের সাংবাদিকদের।
বিশ্বকাপ মানেই এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আলাদা উন্মাদনা। সেই আগ্রহের কারণেই প্রায় প্রতিটি বড় মিডিয়া হাউস বিশ্বকাপ কাভারের জন্য সাংবাদিক পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু এবারের আসরে দল না থাকলেও আইসিসির এমন কঠোর অবস্থান বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের।
বাংলাদেশ ক্রিকেট মাঠে না থাকলেও, ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশের কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে না শোনানোর এই সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনে।
এসি//