যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি জীবদ্দশাতেই নিজের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা থেকেই খেমেনি আগেভাগে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরালো হয়ে উঠলে খামেনি তার ঘনিষ্ঠ মিত্র আলি লারিজানিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসান। তেহরানের ওপর বাড়তে থাকা সামরিক চাপ এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে লারিজানি বহুদিন ধরেই ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে তার সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভূমিকাও ছাপিয়ে যান তিনি।
গেল জানুয়ারির সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে লারিজানির সক্রিয় অংশগ্রহণ তার অবস্থান আরও দৃঢ় করে। বিক্ষোভের সময় খামেনি দেশের প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেন। এর মধ্যে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা তদারকি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশ পরিচালনার বিকল্প কৌশলও তৈরি করছিলেন লারিজানি। বিশেষ করে অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
খামেনি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক পদে চার স্তরের বিকল্প নেতৃত্ব নির্ধারণ করেছিলেন। অর্থাৎ, যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়। এমনকি যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লেও যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেমে না যায়, সে ব্যবস্থাও আগেভাগে ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল।
লারিজানি ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ হলেও তিনি জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম নন—যা সর্বোচ্চ নেতার পদে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের আলোচনায় সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও খামেনির উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়াতির নামও ঘোরাফেরা করছে। পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির কথাও উঠেছে, যিনি ধর্মীয় দিক থেকে যোগ্য হলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির মূল পরিসর থেকে দূরে ছিলেন।
এমএ//