ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে লড়ছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ও নিরাপত্তা বাহিনী। ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। গত ৬ দিন ধরে ইরানের লাগাতার এই হামলার মুখে এবার নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
মঙ্গলবার (০৫ মার্চ ) ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি জানান, ইরান হাজার হাজার একবার ব্যবহারযোগ্য আত্মঘাতী ড্রোন মোতায়েন করেছে। মার্কিন বাহিনী অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংসের সক্ষমতা রাখলেও ঝাঁকে ঝাঁকে আসা সব ড্রোন প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল পাল্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার চেয়ে সেগুলোর উৎক্ষেপণস্থলগুলো দ্রুত ধ্বংস করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইরান নিজেদের তুলনামূলক সস্তা ‘শাহেদ’ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। নিচু উচ্চতায় ধীরগতিতে উড্ডয়ন করার কারণে এসব ড্রোন প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ও থাড শ্রেণির ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শেষ করে দেওয়াই ইরানের একটি কৌশল। তবে বিভিন্ন উপায়ে ড্রোন ধ্বংস করা অব্যাহত থাকায় ওই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। জেনারেল কেইন ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও প্রকাশ্যে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
পেন্টাগনের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা—উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট নির্ভুল অস্ত্র মজুদ আছে। তবে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে মার্কিন সামরিক ব্যয় প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ প্রায় সীমাহীন এবং দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালাতে সক্ষম। তবে তিনি স্বীকার করেন, অত্যাধুনিক কিছু সমরাস্ত্রের মজুদ প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকতে পারে।
বুধবার (০৪ মার্চ ) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো অস্ত্র মজুদ রয়েছে। তার ভাষ্য, পূর্ববর্তী প্রশাসনের নীতির কারণে ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দিতে গিয়ে সামরিক মজুদ কিছুটা কমে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্র মজুদ থাকতে পারে।
এসি//