যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন, সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিলোনা।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে ক্যামেরার সামনে আকস্মিক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এসব করা হচ্ছে।
৫৫ বছর বয়সি এই সাবেক মডেল বলেন, তিনি এপস্টাইনের লালসার শিকার হননি। এই কুখ্যাত অর্থদাতার মাধ্যমেই তার স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে এমন তথ্যও মিথ্যা।
মেলানিয়া ট্রাম্প আরো বলেন, এপস্টাইনের কলঙ্কজনক কর্মকাণ্ডের সাথে তাকে জড়িয়ে মিথ্যাচারের অবসান হওয়া উচিত। যারা তাকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে তাদের নৈতিক মানদণ্ড নেই।
তিনি দাবি করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এপস্টাইনের সঙ্গে তার ভুয়া ছবি বা বিবৃতি প্রচার করা হচ্ছে।
এপস্টাইনের সঙ্গে তার পরিচয়ের দুই বছর আগেই ট্রাম্পের সাথে তার প্রথম দেখা হয়েছিল। কখনো তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে চড়েননি। এপস্টাইনের মালিকানাধীন দ্বীপেও যাননি। এপস্টাইনের কাছে নির্যাতিত হওয়া ভিকটিমদের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না।
এসময় এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকারদের জন্য গণশুনানির আয়োজন করতে তিনি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান।
কিছুদিন আগে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টাইন ও তার সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের একটি ছবি প্রকাশ হওয়া প্রসঙ্গে মেলানিয়া জানিয়েছেন, ওই ছবি কোনো গভীর সম্পর্ক প্রমাণ করে না।
হঠাৎ করে মেলানিয়ার এমন আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। দুই দিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। এমন সময়ে এপস্টাইন কেলেঙ্কারিকে পুনরায় সামনে আনাতে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে সাধারণত মেলানিয়া ট্রাম্পের উপস্থিতি ও বক্তব্য বেশ রহস্যময়, বিরল ঘটনা।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে আমেরিকায় বিচার চলাকালীন অবস্থায় কারাগারে মারা যান এপস্টাইন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সিতে বারবার তার বিভিন্ন কেলেঙ্কারি এবং দুর্নাম আলোচিত হচ্ছে।