২০২৬ বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন চলছে। আর্জেন্টিনা স্বপ্ন দেখছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার। আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতেই একজন মানুষ—লিওনেল মেসি। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সেই মেসিকেই ঘিরে এখন ছড়িয়ে পড়েছে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর শঙ্কা।
ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে হয়তো শেষবারের মতো বিশ্বকাপের আগে মাঠে নেমেছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা। প্রতিপক্ষ ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল, গোলের বন্যা, লুইস সুয়ারেজের হ্যাটট্রিক—সবকিছুর মধ্যেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে একটাই দৃশ্য।
ম্যাচের ৭০ মিনিট। একটি ফ্রি-কিক নিলেন মেসি। বল পা ছাড়ার পরই হঠাৎ নিজের বাম ঊরুর ওপরের অংশ চেপে ধরেন তিনি। মুখে স্পষ্ট অস্বস্তির ছাপ। কয়েক মুহূর্ত পরই নিজেই বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে বদলির ইঙ্গিত দেন। মাঠ ছাড়ার সময় কারও সাহায্য নেননি ঠিকই, কিন্তু বারবার ঊরুতে হাত দেয়ার দৃশ্য কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদয়ে যেন অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
৬-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ইন্টার মায়ামি উল্লাসে ভাসলেও, গ্যালারি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তখন একটাই প্রশ্ন—মেসির চোট কতটা গুরুতর?

ক্লাব সূত্র জানিয়েছে, এখনো চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসেনি। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে, ঠিক কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। যদিও ম্যাচ শেষে ইন্টার মিয়ামির কোচ গুইয়ের্মো হয়োস কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, মেসি ছিলেন ভীষণ ক্লান্ত ও অবসন্ন। তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি তারা।
তবুও ভয় কাটছে না। কারণ বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েক দিন। আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। তার আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তেরা।
ধারণা করা হচ্ছে, সতর্কতার অংশ হিসেবে হয়তো ওই দুই প্রীতি ম্যাচে মেসিকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। কিন্তু বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে তাকে ছাড়া আর্জেন্টিনাকে কল্পনাই করতে পারছেন না সমর্থকেরা।
এই বিশ্বকাপই খুব সম্ভবত মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কিছু জানাননি। তবে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, মেসিকে রেখেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করা হবে।
তাই এখন আর্জেন্টিনার পুরো শিবিরে একটাই অপেক্ষা—মেডিকেল রিপোর্ট কী বলে? কারণ বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্নটা যত বড়, তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন একজনই—লিওনেল মেসি।
পিডি /এসি//