মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা পুরো অঞ্চলকে আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বুধবার (১০ জুন) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন গুতেরেস।
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন শুধু আঞ্চলিক সীমার মধ্যে আটকে নেই; এর প্রভাব ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে। গেল কয়েক দিনের হামলা ও উত্তেজনা পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের পথ খুলে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানান তিনি।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়েও জোরালো বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, দশকের পর দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই সংঘাতের অবসানে এখন বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। দখলদারত্বের অবসান এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সামনে এগোনোর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গুতেরেস বলেন, সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া বা সমাধান বিলম্বিত করা অবিচারকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে। এর ফল শুধু ফিলিস্তিন বা ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উগ্রবাদ ও অস্থিরতাকে উসকে দেয়।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, উপত্যকাটির মানবিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। তার দাবি, ইসরাইল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে।
মানবিক সহায়তার প্রশ্নে গুতেরেস বলেন, খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ কখনোই রাজনৈতিক দর-কষাকষির অংশ হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্কের সহায়তায় যে পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
ইসরাইল কর্তৃক দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও নিরাপত্তা পরিষদের সামনে তুলে ধরেন গুতেরেস। তিনি বলেন, সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের সংযুক্তীকরণ প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের চোখে বৈধ হতে পারে না।
পারস্য উপসাগর নিয়েও উদ্বেগ জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, সেখানে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তা খুব সীমিত পরিসরে কার্যকর। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়ছে।
সিরিয়া প্রসঙ্গে গুতেরেস বলেন, দেশটির শান্তি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই শান্তি টিকিয়ে রাখতে হলে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।
গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তির জন্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
এমএ//