যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির প্রতিবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে মার্কিনিদের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেন আরাঘচি। এরপরই মাসহাদ শহরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন অনেকে।
বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরা এক নারী আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তার হাতে কালো ও লাল পতাকা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে শর্তে চুক্তির আলোচনা চলছে, তা ইরানের স্বার্থ রক্ষা করবে না।
তাদের অভিযোগ, আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত ছাড় দিচ্ছেন। এমনকি নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণও দেশটি হারাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, রোববার ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে সব ধরনের চলাচল নিশ্চিত হবে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা দেয়া হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, রোববার কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতা করছেন।
বিক্ষোভকারীরা রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাদের বড় একটি অংশ বিশেষভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ভূমিকার সমালোচনা করেন।
এসি//