দেশজুড়ে

শৈশবের ক্ষোভ থেকে মাকে নৃশংসভাবে হত্যা

চাঁদপুরের মতলবে পারিবারিক ক্ষোভ ও শৈশবের বঞ্চনা থেকে জন্ম নেওয়া আক্রোশের জেরে নিজের মাকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে মো. জনি নামে এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মজিদা বেগম (৫০) একাধিক বিয়ে করায় শৈশব থেকেই মা-বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন জনি। মামার বাড়িতে চরম অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হওয়া জনি দীর্ঘদিনের সেই ক্ষোভ থেকেই মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

গত ১৭ জুন জনি তার মাকে ছেংগারচর বাজার থেকে একটি অটোরিকশায় করে কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধের প্রমাণ লুকাতে মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন জনি।

এর আগে, গত ২৫ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ওই কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে এক নারীর অর্ধগলিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার চুল খসে গিয়েছিল এবং বন্য শিয়াল শরীরের কিছু অংশ খেয়ে ফেলায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

ঘটনার পরপরই পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা প্রাথমিক সূত্র না থাকায় পুরো বিষয়টি অন্ধকারেই ছিল।

পরবর্তীতে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে জনিকে আটক করে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে জনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, "ঘটনাটি সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস ছিল। কোনো পরিচয় কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমেই আমরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছি।"

 

আর/আই 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #চাঁদপুর #শ্বাসরোধ করে হত্যা