জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে মধ্যরাতে দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে দেবাশীষ চৌধুরী নামের এক যুবদল নেতাকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ না করার অঙ্গীকারের শর্তে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের দোকান এলাকা হিসেবে পরিচিত বটতলায় এই ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, জাবি’র সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা শাখা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দেবাশীষ চৌধুরী ঢাকার ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। ঘটনার সময় তিনি জাবি ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন।
আটকের পর তল্লাশি চালিয়ে দেবাশীষ ও তার সহযোগীর কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই ধ্বংস করা হয়।
নিরাপত্তা কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত জবানবন্দিতে দেবাশীষ চৌধুরী স্বীকার করেন যে, তিনি অনুমতি ছাড়াই গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলেছিলেন। এই আচরণকে অন্যায় আখ্যা দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে এমন বিকৃত কাজ আর করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আমাদের নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং তিনি ছাত্রীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
শর্ত অনুযায়ী, তিনি বা তার কোনো যানবাহন ভবিষ্যতে আর কখনো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সীমানায় প্রবেশ করতে পারবে না।
আর/আই